আরও ৯ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৪-১০-২০২৬ ১১:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-১০-২০২৬ ১২:৫৭:২২ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পক্ষের সম্মতিতে কার্গোর সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দর নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকের চেয়ে ০.১০ মার্কিন ডলার কম। জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে এলএনজি কেনার এ প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী থাইল্যান্ড থেকে অনলাইনে বৈঠকে অংশ নেন। বুধবার (১৪ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডকে সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে এসব কার্গো কেনা হবে।
এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যসূচক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ প্রস্তাবে জেকেএম সূচকের তুলনায় প্রতি এমএমবিটিইউতে ০.১০ ডলার কম দরের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে মোট আমদানি ব্যয় নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারদর, সরবরাহের পরিমাণ এবং চুক্তির অন্যান্য শর্তের ওপর।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও গ্যাসভিত্তিক অন্যান্য খাতে সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকে।
এদিকে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জি টু জি (সরকার থেকে সরকার) পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার দুটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এই বৈঠকেও অর্থমন্ত্রী সভাপতিত্ব করেন।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহের জন্য চেনিয়ার মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল এলএলপি ও ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের দাখিল করা প্রস্তাব জি টু জি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬’-এর ৬৮ ধারা এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫’-এর ৯৯(২) ও ১০৭(২) বিধি অনুসরণের প্রস্তাব করা হয়।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রের জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি কেনার আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবের আওতায় বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড, সাহারা এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড এবং শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট লিমিটেড এফজেডইর কাছ থেকে এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬’-এর ৬৮ ধারা এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫’-এর ৯৭, ৯৮ ও ১০৭ বিধি অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে অনুমোদিত এসব প্রস্তাবের আওতায় এলএনজির মোট পরিমাণ, ক্রয়মূল্য, সরবরাহের সময়সূচি ও আর্থিক ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স